HomeCultural Eventsসুন্দরবনের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ: দূষণ মোকাবিলা, সংরক্ষণ প্রকল্প ও টেকসই পর্যটন

সুন্দরবনের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ: দূষণ মোকাবিলা, সংরক্ষণ প্রকল্প ও টেকসই পর্যটন

15233

বাংলাদেশের গর্ব সুন্দরবন আবার আলোচনার কেন্দ্রে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রতি বেশ কিছু কারণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নজর কাড়ছে। বনাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ রোধে বন বিভাগ নতুন অভিযান শুরু করেছে। ডিমেরচর, কচিখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক ও বনকর্মীরা নিয়মিতভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য কেন্দ্রে পাঠাচ্ছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য সুন্দরবনের প্রাণীজগতকে দূষণ থেকে রক্ষা করা এবং ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখা।

নভেম্বর ২০২৫-এ সরকার ও IUCN Bangladesh যৌথভাবে একটি বড় সংরক্ষণ প্রকল্প চালু করেছে। ফ্রান্সের ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির অর্থায়নে নেওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাগুলোকে টেকসইভাবে রক্ষা করার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা রক্ষার জন্যও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বনাঞ্চলের স্থায়িত্ব ও মানুষের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করবে।

এদিকে তিন মাসের মৌসুমি বন্ধের পর সুন্দরবন আবার পর্যটক, জেলে ও মৌয়ালদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে বন বন্ধ রাখার ফলে বন্যপ্রাণী নিরাপদে প্রজনন করতে পারছে। বন পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের জীবিকায় স্বস্তি এসেছে। এই সময়ে পর্যটকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মাবলী প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বন ও মানুষ উভয়ের জন্য নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করবে।

সম্প্রতি এই সব উদ্যোগ এবং বন পুনর্সহজীবনের প্রচেষ্টা সুন্দরবনকে শুধু পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটক ও গবেষকরা এখানে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দূষণ মোকাবিলা, সংরক্ষণ প্রকল্প ও পর্যটনের সঠিক ব্যবস্থাপনা সুন্দরবনের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও টেকসই করার দিকে একটি বড় ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

You Might Also Like

Latest

More
More