HomeCultural Eventsজলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি তীব্র হচ্ছে

জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি তীব্র হচ্ছে

nalanda university

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক লানসেট ক্লাউন্টডাউন ২০২৫ রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের মানুষ প্রতি বছর গড়ে ২৮.৮টি তাপপ্রবাহের দিন অনুভব করছে, যার মধ্যে ১৩.২টি দিন সরাসরি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। এই অবস্থার কারণে দেশের শ্রমশক্তির কার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্য দুটোই প্রভাবিত হচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে শুধুমাত্র গরমের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আয় ক্ষতি হয়েছে, যেখানে কৃষি খাত ও শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শহরাঞ্চলে ডেঙ্গুর পরিবেশগত উপযোগিতা ১৯৫১–১৯৬০ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ঢাকা ও চট্টগ্রামে শহুরে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩২,০০০, যা গত বছরের সমান সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫% বেশি। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা এই রোগের সংক্রমণ আরও বাড়াচ্ছে। শিশু, বয়স্ক এবং পূর্বে অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

শহরাঞ্চলের ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এই ঝুঁকিকে আরও তীব্র করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ১০ বছরে যদি কার্বন নিঃসরণের হ্রাস এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি না করা হয়, তবে উষ্ণায়নজনিত রোগ ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও ৪০–৫০% বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, হিটওয়েভ সতর্কতা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পানি ও আবাসনের নিরাপত্তা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি শুধু মানুষকে প্রভাবিত করছে না, দেশের অর্থনীতি, শ্রমশক্তি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। তাই সচেতনতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কার্যকর নীতি গ্রহণের প্রয়োজন এখনই, না হলে আগামী দশকে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

You Might Also Like

Latest

More
More