Last updated: নভেম্বর ৩০, ২০২৫ at ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ


বিশ্বের জীববৈচিত্র্য এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গেছে, যা মানবসভ্যতার অস্তিত্বকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। জাতিসংঘের IPBES–এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন দেখায়, পৃথিবীর প্রায় ১০ লাখ প্রজাতি আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। গত ৫০ বছরে বন্যপ্রাণীর বৈশ্বিক জনসংখ্যা গড়ে ৬৯% কমেছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত মানবসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বন উজাড়, প্লাস্টিক ও শিল্পদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি এবং অনিয়ন্ত্রিত কৃষি–শিল্প সম্প্রসারণ ইকোসিস্টেমকে দুর্বল করে তুলছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অর্ধেকেরও বেশি প্রবাল ধ্বংস হয়ে গেছে। আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলার হার বাড়ায় মেরু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তাপদাহ, বন্যা ও অনিয়মিত বর্ষণ বহু স্থানীয় প্রজাতিকে বিপন্ন করে তুলছে।
বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য প্রজাতির খাদ্যশৃঙ্খলকে দুর্বল করছে। নদী–নালা ও হাওর অঞ্চলে মাছের প্রজাতি কমছে, যা সরাসরি মানুষের পুষ্টি, জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
জীববৈচিত্র্যের এই ক্ষয় বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি। বিশ্বের ৭৫% খাদ্যশস্য পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল, অথচ মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পোকামাকড় দ্রুত কমে যাচ্ছে। একইভাবে আধুনিক ঔষধের ৫০%–এর বেশি উপাদান আসে বনজ উদ্ভিদ থেকে, কিন্তু বনভূমি ধ্বংসের কারণে ভবিষ্যতের চিকিৎসা–ব্যবস্থাও সংকটে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই টেকসই কৃষি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য দমনসহ শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কারণ জীববৈচিত্র্য রক্ষা মানে শুধু প্রকৃতিকে রক্ষা করা নয়—মানবসভ্যতার খাদ্য, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতকেই সুরক্ষিত করা। বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে ২১তম শতকই মানবসৃষ্ট ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির সময়কাল হয়ে উঠতে পারে।
277/5 Shaheed Janani Jahanara Imam Smarani (Katabon Dhal), New Market, Dhaka–1205.
Email: Contact@thewayfarerbd.com
Thewayfarer Bangladesh © 2025. All Rights Reserved.