
বিশ্বব্যাপী — সমুদ্রের পানি ৪,০০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, দ্রুত তাপপ্রসারণ ও বরফগলনের কারণে এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, নগরায়ন ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৩ সাল থেকে সমুদ্রস্তর প্রায় ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যদি বর্তমান কার্বন নিঃসরণের প্রবণতা অব্যাহত থাকে, শতাব্দীর শেষে ১–২ মিটার সমুদ্রস্তরের বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরের নিম্নভূমি অঞ্চলগুলোর জন্য ভয়ঙ্কর, যেখানে কোটি কোটি মানুষ বন্যা, স্থানান্তর এবং জীবিকার ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন।
বৃদ্ধির কারণ
• গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফগলন বিশাল পরিমাণে সমুদ্রজলে যোগ করছে।
• মহাসাগরের তাপপ্রসারণ, যার ফলে উষ্ণ জল অতিরিক্ত স্থান দখল করছে।
• পাহাড়ি বরফ ও নদীর পানির প্রবাহ সমুদ্রজলের স্তর বাড়াচ্ছে।
প্রভাব
উপকূলীয় শহর, জলাভূমি এবং গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র যেমন ম্যানগ্রোভ বন ও প্রবাল প্রাচীর ঝুঁকির মুখে। শহরগুলোতে বন্যা, পানীয় জলের ঘাটতি, কৃষি ও জীবিকায় প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
প্রতিরোধ ও সমাধান
বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রস্তরের দ্রুত বৃদ্ধি মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।
• কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা
• উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা
• আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা
বিশ্বের কাছে এখন একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে: যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সমুদ্রস্তরের বৃদ্ধির প্রভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।
277/5 Shaheed Janani Jahanara Imam Smarani (Katabon Dhal), New Market, Dhaka–1205.
Email: Contact@thewayfarerbd.com
Thewayfarer Bangladesh © 2025. All Rights Reserved.